শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ চালু করা হবে: রেল মন্ত্রী

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেলওয়ের নেয়া প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন হলেই ভারতের সাথে কথা বলেই বুড়িমারী চ্যাংরাবান্ধ স্থলবন্দ হয়ে ভারত বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ চালু করা হবে। আগে বুড়িমারী স্থল বন্দর থেকে মালামাল রেল পথে যেত, এখন ট্রাকে যাচ্ছে। ট্রাক সেক্টররের সিন্ডিকেটের কারণে এখন আর রেল পথে মালামাল যাচ্ছে না। এতে রেলওয়ে বিভাগ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা যদি আবারও উদ্দ্যোগ নিয়ে রেল পথে মালামাল পরিবহন করেন তাহলে রেলওয়ে বিভাগ আরো লাভজনক হয়ে উঠবে।

দু’দিনের সফরে শুক্রবার (২২ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর ও জিরো লাইনের রেলপথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পন্য রেলপথে পরিবহনে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ বছরেই চালু করা হবে আন্তঃনগর ট্রেন ‘তিনবিঘা করিডোর এক্সপ্রেস’। যাতে তিন দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীরা দ্রুত ঢাকার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সেই সাথে ব্যবসায়ীরাও তাদের পন্য পরিবহন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বুড়িমারী স্থল বন্দর-চ্যাংরাবান্ধা রুট দিয়ে ৪ দেশীয় ট্রেন পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপাল ৪ দেশীয় বাণিজ্যিক যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন স্থলবন্দর ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা। আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব বাস্তবায়ন হবে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি তিনবিঘা এক্সপ্রেস চালু হবে। দেশে ট্রাকের যে আধিপত্ত। তাতে ব্যবসায়ীরা রেলপথে পন্য পরিবহন না করায় ওয়াগান(মালবাহি) গুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা চাইলেই ওয়াগারগুলো ব্যবহার করা হবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের আহবান আপনারা পন্য পরিবহনে রেলপথ ব্যবহার করুন। সড়ক পথের চেয়ে বেশি সুবিধা দেয়া হবে। জাইকার সাথে চুক্তি হয়েছে খুব দ্রুত যমুনা সেতুতে পৃথক রেল সেতু নির্মানের কাজ শুরু করা হবে। এটা হলে রেলপথে পন্য বা যাত্রী পরিবহনে ঝুঁকি থাকবে না।

ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরের রেলপথ ব্রডগেজ। অপর দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের রেলপথ মিটারগেজ। আমাদের পথ ব্রডগেজ হলে ভারতের সাথে কথা বলে কানেক্টিভিটি করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্থলবন্দরে কানেক্টিভিটি চালু করা হয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের ব্যবসা বাণিজ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরটি খুবই গুরুত্বপুর্ন। তাই লালমনিরহাটের বুড়িমারী থেকে যমুনা সেতুর সংযোগ পর্যন্ত ব্রডগেজ নির্মানে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই ভারতের সাথে কথা বলেই বুড়িমারী চ্যাংরাবান্ধ স্থলবন্দর হয়ে ভারত বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ চালু করা হবে।

এ সময় মন্ত্রীর সাথে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমি, জেলা পরিষদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ, রেলপথ মহা পরিচালক খন্দকার শহিদুল হক ও জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার তাপস সরকার উপস্থিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী দু’দিনের সফরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে করে লালমনিরহাট রেল স্টেশনে পৌঁছেন। এরপর লালমনিরহাট সার্কিট হাউজে দুই ঘণ্টা বিশ্রাম শেষে একটি শাটল ট্রেনে করে বুড়িমারী স্থলবন্দর রেল স্টেশনে পৌছেন। এরপর বুড়িমারী জিরোলাইন পরিদর্শন করে পুনরায় শার্টল ট্রেনে লালমনিরহাটের উদ্দেশ্য রওনা দেন মন্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com